whatsapp icon
Request for Book01919-61549601919-615496
এক নজরে হজ ২০২৬: হাজির সংখ্যা, খরচ
পবিত্র হজের প্রস্তুতি হোক সঠিক তথ্যের সঙ্গে

হজের খরচ, প্যাকেজ, হাজির সংখ্যা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানুন। বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্যাকেজের বিস্তারিত দেখুন একসঙ্গে।

এক নজরে হজ ২০২৬: হাজির সংখ্যা, খরচ ও বিস্তারিত তথ্য

২০২৬ সালের পবিত্র হজের আরাফাতের দিন ছিল মঙ্গলবার, ২৬ মে (৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭ লাখের বেশি মুসলমান এ বছর হজ পালন করেন। বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজে অংশ নেন। ২০২৬ সালের হজে হাজিদের সংখ্যা, নিবন্ধন, হজ প্যাকেজের খরচ, ফ্লাইটের সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একসঙ্গে তুলে ধরা হলো।

বিশ্বজুড়ে মোট হাজি
১৭,০৭,৩০১ জন
সৌদি সরকারি পরিসংখ্যান
বাংলাদেশের হজ কোটা
৭৮,৫০০ জন
সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে
সরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজ
৪,৬৭,১৬৭ টাকা 
ঘোষিত প্যাকেজ মূল্য
বেসরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজ 
৫,০৯,১৮৫ টাকা 
ঘোষিত প্যাকেজ মূল্য
হজ ২০২৬-এ অংশ নেওয়া হাজিরা

হজ ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান

২০২৬ সালের হজে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমান অংশ নেন। সৌদি আরবের সরকারি পরিসংখ্যান এবং বাংলাদেশ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজের উল্লেখযোগ্য তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো। এক নজরে হজ ২০২৬-এর তথ্যতালিকা:

বিষয় তথ্য
হিজরি সাল ১৪৪৭ হিজরি
আরাফাতের দিন ২৬ মে ২০২৬
বিশ্বজুড়ে মোট হাজি ১৭,০৭,৩০১ জন
সৌদি আরবের বাইরে থেকে আগত হাজি ১৫,৪৬,৬৫৫ জন
সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজি ১,৬০,৬৪৬ জন
বাংলাদেশের হজ কোটা ৭৮,৫০০ জন
সরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা ৪,৫৬৫ জন
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা ৭৩,৯৩৫ জন
বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে শেষ হজ ফ্লাইট ২১ মে ২০২৬
প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৩০ মে ২০২৬
শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৩০ জুন ২০২৬
অনুমোদিত লিড হজ এজেন্সি ৩০টি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ হজ পোর্টালের ১ জুন ২০২৬-এর বুলেটিন ও সৌদি GASTAT-এর ২৬ মে ২০২৬-এর প্রতিবেদন।

বাংলাদেশ থেকে হজ ২০২৬: হাজিদের সংখ্যা ও নিবন্ধন

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪,৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩,৯৩৫ জনের কোটা ছিল। হজে যাওয়ার জন্য ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময়সীমা ছিল ১৬ অক্টোবর ২০২৫।

হজ ২০২৬ শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে প্রত্যাবর্তন

হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে বাংলাদেশি হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়। ১ জুলাই ২০২৬-এর বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাজি ও হজসংশ্লিষ্ট সেবাকর্মী মিলিয়ে ৭৯ হাজার ১০০ জন সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। মোট ২১৬টি নির্ধারিত ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৫৫ জন বাংলাদেশি হাজি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী ছিলেন।

সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬-এর মূল্যতালিকা

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ২০২৬ সালের সরকারি হজ প্যাকেজগুলোর মূল্য:

প্যাকেজ ঘোষিত খরচ
সরকারি হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) ৬,৯০,৫৯৭ টাকা
সরকারি হজ প্যাকেজ-২ ৫,৫৮,৮৮১ টাকা
সরকারি হজ প্যাকেজ-৩ ৪,৬৭,১৬৭ টাকা
বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ ৫,০৯,১৮৫ টাকা
সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬-এর মূল্যতালিকা

হাবের ঘোষিত বেসরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) বেসরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য আরও তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। ২০২৬ সালের হজের জন্য ফ্লাইট রোজের হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল:

প্যাকেজ ঘোষিত খরচ ফ্লাইট রোজের প্যাকেজের মূল্য
সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজ ৫,১০,০০০ টাকা ৫,৫০,০০০ টাকা
সাধারণ হজ প্যাকেজ ৫,৫০,০০০ টাকা ৬,৬৫,০০০ টাকা
বিশেষ হজ প্যাকেজ ৭,৫০,০০০ টাকা ৮,৪০,০০০ টাকা
নোট: মূল্যগুলো ২০২৬ সালের ঘোষিত প্যাকেজের। তাই প্যাকেজগুলোর মূল্য সরাসরি তুলনা করার আগে অন্তর্ভুক্ত সুবিধাগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।

হাবের হজ প্যাকেজ ২০২৬ ও ফ্লাইট রোজ ট্রাভেল সার্ভিস-এর প্যাকেজমূল্যের তুলনা

একটি প্রশ্ন আসতেই পারে, হাবের ঘোষিত হজ প্যাকেজের তুলনায় ফ্লাইট রোজ ট্রাভেল সার্ভিস-এর প্যাকেজের মূল্য বেশি কেন? এর কারণ মূলত হোটেলের অবস্থান, খাবারের মান এবং হজের পুরো সফরে বাড়তি সেবার ব্যবস্থা। আমরা চাই, হাজিরা যেন যাতায়াত ও দৈনন্দিন প্রয়োজন নিয়ে কম চিন্তা করেন এবং ইবাদতে বেশি সময় দিতে পারেন। হাবের হজ প্যাকেজ ও আমাদের হজ প্যাকেজগুলোর সুবিধার পার্থক্য তুলে ধরা হলো:

প্যাকেজ হাব ২০২৬ হজ প্যাকেজের সুবিধা ফ্লাইট রোজের প্যাকেজের আবাসন ও বিশেষ সুবিধা
সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষিত সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজ মক্কায় ৫০০–৭০০ মিটার, মদিনায় ৬০০–৭০০ মিটার; তিন বেলা খাবার ও গাইড
সাধারণ প্যাকেজ সাধারণ হজ প্যাকেজ মক্কায় ৫০০–৭০০ মিটার, মদিনায় ০–৪৫০ মিটার; তিন বেলা খাবার ও গাইড
বিশেষ প্যাকেজ খাবার ও কুরবানিসহ বিশেষ প্যাকেজ মক্কা ও মদিনায় ০–৫০০ মিটার; তিন বেলা খাবার ও গাইড
আমাদের লক্ষ্য শুধু হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়া নয়। মক্কা-মদিনায় থাকা, খাওয়া, যাতায়াত এবং হজের বিভিন্ন আমল পালনে প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করা। এসব বাড়তি সুবিধা ও ব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের প্যাকেজের মূল্য তুলনামূলক বেশি।

হজ ২০২৬ প্যাকেজভেদে মক্কা-মদিনায় আবাসন ও মিনা-আরাফার সুবিধা

২০২৬ সালের সরকারি ও বেসরকারি হজ প্যাকেজে মক্কা-মদিনায় হোটেলের অবস্থান, হারাম শরিফ থেকে দূরত্ব এবং মিনা-আরাফার সেবায় কিছু পার্থক্য ছিল। প্যাকেজ অনুযায়ী হাজিদের জন্য নির্ধারিত আবাসন ও অন্যান্য সুবিধার তুলনামূলক তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

হজ প্যাকেজ ২০২৬ মক্কায় আবাসন মদিনায় আবাসন মিনা-আরাফার সেবা
সরকারি প্যাকেজ-১ (বিশেষ) হারাম শরিফের বহিঃচত্বর থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যে মারকাজিয়া (সেন্ট্রাল এরিয়া) এলাকায় জোন-২-এ তাঁবু, ডি+ ক্যাটাগরির সেবা ও খাবার
সরকারি প্যাকেজ-২ হারাম শরিফের বহিঃচত্বর থেকে ১.২–১.৮ কিমির মধ্যে মারকাজিয়া এলাকায় জোন-২-এ তাঁবু, ডি ক্যাটাগরির সেবা ও খাবার
সরকারি প্যাকেজ-৩ আজিজিয়া এলাকায়, হারাম শরিফ থেকে ৬–৮ কিমি দূরে; নামাজের জন্য বাস যাতায়াত মারকাজিয়া এলাকার বাইরে জোন-৫-এ তাঁবু, ডি ক্যাটাগরির সেবা ও খাবার
বেসরকারি সাধারণ হজ প্যাকেজ হারাম শরিফের বহিঃচত্বর থেকে ৩ কিমির মধ্যে; বাস যাতায়াত মসজিদে নববী থেকে ১ কিমির মধ্যে জোন-৫-এ তাঁবু, ডি ক্যাটাগরির সেবা ও খাবার

বিশ্বজুড়ে হজ ২০২৬: কোন দেশ থেকে কত হাজি অংশ নিয়েছিল?

সৌদি আরবের General Authority for Statistics (GASTAT)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজে মোট ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ লাখের বেশি হাজি সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসেন। মোট হাজিদের মধ্যে ৮,৯৩,৩৯৬ জন পুরুষ এবং ৮,১৩,৯০৫ জন নারী ছিলেন। হজ ২০২৬-এ সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি হাজি:

বিদেশ থেকে আগত হাজিদের মধ্যে বেশির ভাগই আকাশপথে সৌদি আরবে পৌঁছান। বিমানপথে ১৪,৮৫,৭২৯ জন, স্থলপথে ৫৪,৪২৯ জন এবং সমুদ্রপথে ৬,৪৯৭ জন হাজি প্রবেশ করেন।

বিশ্বজুড়ে হজ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী হাজিদের পরিসংখ্যান

বিগত বছরগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীর সংখ্যা

২০২৬ সালের হজের পরিসংখ্যান বুঝতে আগের কয়েক বছরের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে কমেছে। যেখানে ২০২৩ সালে ১০,৩৬০ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন, সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা কমে ৪,৫৬২ জনে দাঁড়ায়।

২০২৫ সালে এই সংখ্যা সামান্য বেড়ে ৫,২০০ হলেও ২০২৬ সালে তা আবার কমে ৪,৫৬৫ জনে নেমে আসে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকার ২০২৭ সালের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের কোটা ৬,০০০ নির্ধারণ করেছে।

বছর হজযাত্রীর সংখ্যা
২০২২ ৬০,১৪৬ জন
২০২৩ ১,২২,৫৫৮ জন
২০২৪ ৮৫,২৫৭ জন
২০২৫ ৮৬,৯৮১ জন
২০২৬ ৭৬,৫৮০ জন
২০২৭ সালের নির্ধারিত কোটা ৭৮,৫০০ জন
বাংলাদেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর পরিসংখ্যান

পরবর্তী হজের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

প্রতি বছর হজের কোটা, প্যাকেজের মূল্য, আবাসন ও সৌদি সরকারের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পরবর্তী হজের প্রস্তুতি নেওয়ার আগে ২০২৭ সালের সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদিত হজ প্যাকেজ যাচাই করুন। ফ্লাইট রোজ ট্রাভেল সার্ভিস বাংলাদেশের একটি সরকার-অনুমোদিত হজ এজেন্সি (হজ লাইসেন্স নং: ১৩০৬)। হজযাত্রা ও ভ্রমণসেবা পরিচালনায় আমাদের রয়েছে বহু বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

হজের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মক্কা-মদিনায় অবস্থান ও হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে আমরা হাজিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দিয়ে থাকি। আমাদের লক্ষ্য, হাজিরা যেন দুশ্চিন্তামুক্ত থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে হজ পালন ও ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারেন।

আত্মবিশ্বাসের সাথে আপনার হজ বা উমরাহ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।