হজ সঞ্চয় স্কিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য
- ৫, ৮, ১০, ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদের স্কিমে সঞ্চয়ের সুযোগ রয়েছে।
- প্রতি মাসে নির্ধারিত কিস্তিতে অর্থ জমা দিতে হয়।
- সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত মুদারাবা নীতিমালায় পরিচালিত হয়।
- দৈনিক স্থিতির (Daily Balance) ভিত্তিতে মুনাফা হিসাব করা হয়।
- স্কিমটির জন্য নির্ধারিত ১.১০ প্রফিট ওয়েটেজ (Profit Weightage) প্রযোজ্য।
- প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে কিস্তি জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
- আগাম একাধিক মাসের কিস্তি একসঙ্গে জমা দেওয়া যায়।
- মেয়াদ শেষে জমাকৃত অর্থ ও প্রাপ্য মুনাফা একসঙ্গে প্রদান করা হয়।
- প্রয়োজন হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হজে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে।
কে এই হিসাব খুলতে পারবেন?
- হজ পালনের উদ্দেশ্যে সঞ্চয় করতে আগ্রহী যে কোনো বাংলাদেশি মুসলিম নাগরিক।
- প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি নিজ নামে একটি হজ ডিপোজিট হিসাব খুলতে পারবেন।
- ব্যাংকের প্রচলিত KYC (Know Your Customer) ও অন্যান্য নীতিমালা পূরণ সাপেক্ষে হিসাব খোলা যাবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা বৈধ পাসপোর্টের কপি
- গ্রাহকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- নমিনির ছবি
- নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)
- ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাব খোলার আবেদনপত্র
- KYC (Know Your Customer) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি
- প্রয়োজন হলে ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র
কিস্তি পরিশোধের সুবিধা
গ্রাহক বিভিন্ন উপায়ে মাসিক কিস্তি জমা দিতে পারেন, যেমন—
- এক্সিম ব্যাংকের যেকোনো শাখায় সরাসরি
- নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়মিত কিস্তি জমা
- আগাম একাধিক মাসের কিস্তি একসঙ্গে জমা দেওয়ার সুবিধা
- ব্যাংকের অনুমোদিত ডিজিটাল ব্যাংকিং চ্যানেল (যদি উপলব্ধ থাকে)
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে হজে যেতে চাইলে
যদি কোনো গ্রাহক স্কিমের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হজে যেতে চান, তাহলে তখনকার সরকারি বা অনুমোদিত হজ ব্যয়ের
ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ জমা দিয়ে হজে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা
ও শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে।
মেয়াদপূর্তির আগে হিসাব বন্ধ করলে
গ্রাহক যদি মেয়াদপূর্তির আগেই হজ ডিপোজিট স্কিম বন্ধ করেন, তাহলে ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী স্কিমের
বিশেষ সুবিধা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ মুদারাবা সেভিংস ডিপোজিট হিসাবের প্রযোজ্য মুনাফা
প্রদান করা হতে পারে।
এছাড়া পরপর তিনটি মাসিক কিস্তি পরিশোধ না করলে ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী হিসাব বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুনাফার হার
এক্সিম ব্যাংকের মুদারাবা হজ ডিপোজিট স্কিমে নির্দিষ্ট স্থায়ী মুনাফার হার নির্ধারিত নয়। ব্যাংকের
শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়ের ভিত্তিতে পরিবর্তনশীল (Variable) মুনাফা প্রদান করা হয়। স্কিমটির জন্য
নির্ধারিত ১.১০ প্রফিট ওয়েটেজ প্রযোজ্য। সর্বশেষ মুনাফার হার জানতে নিকটস্থ এক্সিম ব্যাংক শাখা অথবা ব্যাংকের
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করা উচিত।
কেন এই স্কিম বেছে নেবেন?
- হজের জন্য দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পিতভাবে অর্থ সঞ্চয় করা যায়।
- সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত মুদারাবা পদ্ধতিতে পরিচালিত।
- ৫, ৮, ১০, ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদের নমনীয় সঞ্চয় সুবিধা।
- মাসিক কিস্তিতে সঞ্চয়ের মাধ্যমে এককালীন আর্থিক চাপ কমে।
- দৈনিক স্থিতির ভিত্তিতে মুনাফা হিসাব করা হয়।
- ১.১০ প্রফিট ওয়েটেজের সুবিধা প্রযোজ্য।
- আগাম কিস্তি জমা দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
- প্রয়োজন হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হজে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
- ভবিষ্যতের হজ ব্যয়ের জন্য নিরাপদ, পরিকল্পিত ও শরিয়াহসম্মত সঞ্চয় গড়ে তোলা যায়।